মেনু নির্বাচন করুন

অর্থকরী সম্পদ

অর্থকরী সম্পদ

১ নং হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন মোটামুটিভাবে অর্থকরী সম্পদে সমৃদ্ধ । ধান, পান, লবণ, মৎস্য, শুটকিসহ রয়েছে বিপুল অর্থকরী সম্পদ। এসব সম্পদ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান হচ্ছে। বিশেষ করে পান দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও চলে যাচ্ছে। হোয়াইক্যং এর বিস্তীর্ণ ভূমি জুড়ে রয়েছে পানের বরজ ও সোনালী ধানের ক্ষেত। পুরুষ পরম্পরায় এ অঞ্চলের মানুষ এই সম্পদের উপর ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। নিম্নে বিশেষ বিশেষ অর্থকরী সম্পদের বিবরণ দেয়া হলোঃ

 

ধানঃ হোয়াইক্যং এ মোট জমির ৬৫%  জমিতে ধান চাষ করা হয়। উলুবনিয়া, মনিরঘোনা, কাটাখালী, হোয়াইক্যং, লাতুরীখোলা, দৈংগ্যাকাটা, উনছিপ্রাং, লম্বাবিল, রইক্ষ্যং, কানজর পাড়া, নয়াপাড়া, ঝিমংখালী, পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়া, পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়া, পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়া, পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়া, নাছর পাড়া, খারাংখালী, কম্বনিয়া পাড়া, রোজারঘোনাসহ প্রতিটি গ্রামে চাষীরা ধান চাষ করে থাকে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জমি ধান চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানে কিছু কিছু জমিতে বছরে দু’মৌসুম ধান চাষ করা হয়। এমন অনেক লোক রয়েছে যারা সারা বৎসর ধানের ব্যবসা করে জীবন জিবীকা নির্বাহ করে থাকে। হোয়াইক্যংএর অর্থকরী ফসলের মধ্যে ধান বিশেষভাবে স্থান দখল করে আছে। ইউনিয়নের সিংহ ভাগ মানুষ ধান চাষের সাথে জড়িত।

 

পানঃ পান কক্সবাজার জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল। পান উৎপাদনে বাংলাদেশে বিখ্যাত কক্সবাজার জেলা। পান চাষের উপর ভিত্তি করে অন্ন সংস্থান হচ্ছে জেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের। হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ, মহেশখালী, খুরুশ্কুল, ঝিলংজা, পি.এম.খালী, রামু, মিঠাছড়ি, রাজারকুল, উখিয়াসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পানের চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সব অঞ্চলে পান বিশেষ করে হোয়াইক্যং, মহেশখালী ও কক্সবাজারের মিঠাপান কুয়েত, আরব আমিরাত, সৌদিআরবসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হচ্ছে। হোয়াইক্যং এর পশ্চিমপার্শ্বে যে পাহাড় শ্রেণী রয়েছে সে সব পাহাড়ের পাদদেশে প্রচুর পরিমাণ পানের বরজ রয়েছে। হোয়াইক্যং এর অনেক কৃষক পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কক্সবাজারের মধ্যে পান উৎপাদিত এলাকা হিসাবে আলাদা পরিচয় বহন করে চলছে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন।

 

লবণঃ বাংলাদেশের প্রায় ৭০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ করা হয়। কক্সবাজার জেলা ও বাঁশখালী উপজেলার উপকূল জুড়ে লবণের চাষ হয়। কক্সবাজার জেলা ও বাঁশখালী উপজেলা লবণ চাষের জন্য একমাত্র উপযোগী স্থান। দেশের লবণ চাহিদার শতভাগ পূরণ হয় এই অঞ্চল থেকে। 

 

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মোট ২০% জমিতে লবণের চাষ হয়। কুতুবদিয়া পাড়া, কানজর পাড়া, নয়াপাড়া, ঝিমংখালী, সাতঘরিয়া পাড়া, মহেশখালীয়া পাড়া, খারাংখালীর কিছু জমিতে লবণের চাষ করা হয়। অর্থকরী সম্পদ হিসেবে হোয়াইক্যং এ লবণের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। লবণের মাধ্যমে অত্যন্ত সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছে সংশ্লিষ্ট লবণচাষী, ব্যবসায়ীসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠি।

 

মৎস্যঃ মৎস্য সম্পদেও সমৃদ্ধ হোয়াইক্যং। হোয়াইক্যংএ পূর্বদিকে মায়ানমারের সাথে সীমানা প্রাচীর হিসাবে অবস্থান করে আছে নাফ নদী। নাফ নদীতে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। মাছের প্রাচুর্যের কারণে এ অঞ্চলে গড়ে উঠে নৌকা ও বোটের ব্যবসা। মাছ ধরার জন্য হোয়াইক্যংএ প্রতি বৎসর আট/দশটি বোট তৈরী করা হয়। পাশাপাশি পুকুরেও মাছ চাষ করা হয়। উপকূল থেকে ধরা হয় চিংড়ীর রেনু পোনা, যা সোনার মূল্যে বিক্রি হয় কিন্তু এই রেনু পোনা ধরতে গিয়ে অনভিজ্ঞতা ও অজ্ঞতার কারণে হাজারো সামুদ্রিক মাছের পোনা মেরে ফেলা হয়। এতে সামুদ্রিক মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায়না।

 

হোয়াইক্যং ইউনিয়নে বর্তমান শতাধিক চিংড়ী ঘের রয়েছে এবং আরো চিংড়ী ঘের তৈরীর পথে। চিংড়ী, সামুদ্রিক মৎস্য থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে হোয়াইক্যং বাসী।  

 

শুটকিঃ গভীর সাগর থেকে জেলেরা মাছ ধরে এনে রোদে শুকিয়ে শুটকি করে রাখে। শুটকি মাছ হোয়াইক্যং এর আরো একটি অন্যতম অর্থকরী সম্পদ। দেশে বর্তমানে শুটকির চাহিদা প্রচুর। খুরুশ্কুলের জেলেরা এ চাহিদা মিটিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ একদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনলেও অপরদিকে এই মৎস্য সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে প্রতি বছর শত শত জেলের সলিল সমাধি ঘটে এবং বিভিন্ন সময় জলদস্যুদের হাতে নিহত ও অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়।